ইসলামী সংস্কৃতির সীমারেখা

Islam

ইজাব টিভি : আদর্শ সংস্কৃতির জন্য প্রয়োজন আদর্শ জীবনের মাপকাঠি। ইসলাম হলো সঠিক জীবনবিধান ও পরিশুদ্ধ মাপকাঠির ধর্ম। ইসলাম দিয়েছে মানুষকে সুন্দর সুষমামণ্ডিত জীবনব্যবস্থার গ্যারান্টি। আর যে শান্তির ধর্ম ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়। দ্বীনের বিভিন্ন বিধানকে অবজ্ঞা করার বিষফল স্বরূপ এমনটি হয়ে থাকে। অন্য দিকে মুক্তমনে কেউ যদি নিজের মত প্রকাশ করতে গিয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিদ্বেষ ছড়ায় বা ধর্মের ওপর কোনো ধরনের আপত্তি কিংবা অভিযোগের আঙুল দাঁড় করায়, তবে সেও আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে ছিটকে পড়ে। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ 

মানবজীবনে সংস্কৃতি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। প্রতিটি জিনিসের একটা সীমারেখা বা ফর্মুলা থাকে। সীমারেখা এবং ফর্মুলার মধ্যে থাকে ভালো-খারাপ তথা ইতিবাচক ও নেতিবাচকের প্রভাব। সুতরাং যারা দেশীয় সংস্কৃতির নামে বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করছে তারা আদর্শ সংস্কৃতির ভেতরের মানদণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়ে যায়। আল্লাহ সময় দেন, বান্দা সংশোধন হয়ে পুনরায় ফিরে আসে কি না? এ ক্ষেত্রে কেউ যদি সীমা লঙ্ঘন করে, তবে তার জন্য আল্লাহর আদালতে কড়ায়-গণ্ডায় জবাবদিহি করা লাগবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনে সূরা নাহলের ৬১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের সীমা লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি দিতেন তবে ভূপৃষ্ঠে কোনো জীবজন্তুকেই রেহাই দিতেন না, কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। তারপর যখন তাদের সময় আসে তখন তারা মুহূর্তকাল বিলম্ব অথবা ত্বরা করতে পারে না।’
সুতরাং পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের সংস্কৃতি দ্বারা মানবজীবনে কোনো ইতিবাচক বিকাশ ঘটে না, ঘটে ধর্ষণ আর একে অন্যকে চুষে খাওয়ার প্রতিযোগিতা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে তাকালে পরিলক্ষিত হয় তাদের সংস্কৃতির বিকাশ ও এর অলিগলি। বিজাতিরা যেভাবে নিজস্ব কৃষ্টিকালচার পালনে ব্রতী হয়, আমরা নিজেরাই পরবাসী হয়ে তাদের চেয়ে বেশি পালন করছি ভিনদেশীয় কালচার। আর এ সাংস্কৃতিক দিক থেকে কেউ যদি আল্লাহর অবাধ্য হয়, তবে তাঁর আজাবও কাউকে ছাড়ে না। কেউ প্রকাশ্যে বা গোপনে আল্লাহর নাফরমানি করলে আল্লাহ তা দেখেন। সাময়িকভাবে এ পাপ থেকে বান্দার ফিরে আসার কোনো অবকাশ থাকলে তাও আল্লাহ দেখেন। কারণ, পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন। তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখেন।’
ইসলাম ধর্ম হলো আদর্শ সংস্কৃতির প্রতীক। ইসলাম ধর্মে যে পরিমাণ সংস্কৃতি পরিচর্যা হয়, অন্য ধর্মে তা হয় না। তবুও মুসলমান স্বীয় সংস্কৃতি থেকে গাফেল হয়ে অজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে অন্য সংস্কৃতিকে আপন করে নেয়, যা আপত্তিকর একটি বিষয়। এ জন্য ধর্মীয় কৃষ্টিকালচারকে আদর্শের মাপকাঠি এবং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা চাই। চাই তা পয়লা বৈশাখ বা যেকোনো অনুষঙ্গের ক্ষেত্রে হয়ে থাকুক না কেন। কিছু না জেনে শুধু ইসলামে বিনোদন নেই বলে গলা ফাটালে অন্য কালচার সঠিক হয়ে যায় না। বরং ইসলাম কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে সীমা লঙ্ঘন না হয়ে যায়। জীবনের ছন্দে-আনন্দে নিজের ভেতরের চিন্তা ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে ধর্মের সঠিক জ্ঞান রাখেন, এমন ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। দেশ ধর্ম জাতি দল মত নির্বিশেষে সবার মধ্যে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটুক। মানবজীবনের সৌন্দর্যমণ্ডিত অনুষঙ্গ ও মার্জিত সংস্কৃতির জীবন্ত অধ্যায় ধর্মীয় কৃষ্টিকালচারের সুনির্মল ছোঁয়ায় হয়ে উঠুক চিরসজীব ও প্রাণবন্ত, এটাই প্রত্যাশা।
লেখক : প্রবন্ধকার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>