কুরআন তিলাওয়াতকারীরাই প্রকৃত কুরআন বিশ্বাসী

holy_quran
দিদারুল আলম : “আমি যাদের কিতাব দিয়েছি তাদের মধ্যে যারা তা যথাযথভাবে তিলাওয়াত করে, হক সহকারে তিলাওয়াত করে তারাই তার প্রতি ঈমান রাখে, আর যারা তা অবিশ্বাস করে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত” (সুরা বাকারা, ১২১নং আয়াত)। ঈমানদার-মুসলিম হিসেবে আমাদের ঈমান কোন পর্যায়ে তা যাচাই করা, ঈমানী অবস্থান নির্ণয় করা, ঈমানী দুর্বলতা চিহ্নিত করা, ঈমান ঠিক আছে কিনা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তার খোঁজখবর নেয়া এবং যথাযথ ও আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় ঈমানের অধিকারী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আর আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা প্রত্যেকের জন্য জরুরি। কারণ সূরা বাকারার ৮ ও ৯ নং আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে, “আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা বলে আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর ওপর ও আখিরাতের ওপর কিন্তু আসলে তারা ঈমানদার নয়। তারা ধোঁকা দিতে চায় আল্লাহ ও ঈমানদারদের অথচ তারা যে নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না, তা তারা বুঝতে পারে না।” কুরআনের উক্ত বর্ণনার আলোকে আমাদেরকে দেখতে হবে আমাদের ঈমান কি খাঁটি, না আমাদের ঈমান নামকাওয়াস্তে? ঈমানের দাবী অনুযায়ী আমি কি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে চলার চেষ্টা করি, না ঈমানদার হয়েও আমার পছন্দ-অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়া, সুবিধে-অসুবিধে এবং মর্জি মাফিক আমি ধর্ম পালন করি? নিজেদের ঈমানী অবস্থান নির্ণয়ের জন্য এবং অবস্থানের আলোকে করণীয় নির্ধারণের জন্য ঈমানদার হিসেবে আসুন আমরা নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করি। সংক্ষেপে প্রশ্নগুলো হচ্ছে- আমি কি আল্লাহর সর্বপ্রথম আদেশ মানতে চাই, আল্লাহর নিকট শিক্ষিত হতে চাই, চতুষ্পদ জানোয়ার গাধা না হয়ে মানুষ হতে চাই, একই আয়াতের ২টি আদেশই মানতে চাই (নামাজ আল্লাহর নিকট কবুল হোক তা চাই), কিয়ামতের দিন চোখ ওয়ালা হয়ে উঠতে চাই, রাসূলের শাফায়াত পেতে চাই, নবীওয়ালা কাজ করতে চাই, প্রকৃত আনন্দ করতে চাই ও পুঞ্জীভূত সম্পদের অধিকারী হতে চাই এবং নিজের হাত নিজে কামড়ানো থেকে রক্ষা পেতে চাই? উক্ত প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে আমার মনোভাব যদি ইতিবাচক হয়, হ্যাঁ বোধক হয় তাহলে ঈমানদার হিসেবে, আল্লাহ বিশ্বাসী হিসেবে এবং কুরআন বিশ্বাসী হিসেবে আসুন কুরআনে একটু চোখ বুলাই, কুরআনে নজর দেই। ও হ্যাঁ একটি কথা না বললেই নয়, আমি যদি প্রকৃত ঈমানদার মুসলিম হিসেবে আল্লাহর নিকট পরিগণিত হতে চাই তাহলে উক্ত বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমার মনোভাব ইতিবাচক হতেই হবে, হ্যাঁ বোধক হতেই হবে (লেখার কলেবর ছোট রাখার জন্য অনেক প্রশ্নের মধ্যে কয়েকটি প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে)। প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় কুরআনের আয়াতের প্রতি নজর দেয়া যাক।১। হেরা গুহায় মহানবী (সাঃ)-এর উপর সর্বপ্রথম ওহিরূপে সূরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত নাজিল হয় এবং তিনি নবুয়ত লাভ করেন। নাজিলকৃত এ আয়াত সমূহের প্রথম আয়াতে আল্লাহর আদেশ হচ্ছে, “পড় তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন”। কাজেই কুরআন পড়া আল্লাহর সর্বপ্রথম ও সর্ব প্রধান আদেশ।২। সূরা বাকারার ৭৮নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘‘তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে যারা মিথ্যা আশা ছাড়া কিতাবের কিছুই জানে না, তারা শুধু অমুলক ধারণাই পোষণ করে’’। মানুষ যত ডিগ্রী আর পদবীর অধিকারী বা মর্যাদার অধিকারী হোক, ধর্মের পথে চলুক, মানুষকে ডাকুক, কিতাবের জ্ঞান না থাকলে আল্লাহর দৃষ্টিতে ঐ লোক মূর্খ-অশিক্ষিত। আল্লাহর দৃষ্টিতে শিক্ষিত হতে হলে কুরাআনের জ্ঞান থাকতে হবে। ৩। ‘‘তাদের কি হলো যে, তারা এই উপদেশ বানী (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? যেন তারা ভীত সন্ত্রস্ত বন্য গাধা, যা সিংহ থেকে পলায়ন করছে’’। উক্ত আয়াতগুলো হচ্ছে সূরা মুদ্দাচ্ছিরের ৪৯,৫০ও৫১ আয়াত। আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের মধ্যে যারা কুরাআন বিমুখ তারা যেন বন্য গাধা, কথাটি স্বয়ং আল্লাহর।৪। সূরা আনকাবুতের ৪৫নং আয়াতের ২টি আদেশ হচ্ছে, “ওহির মাধ্যমে যে কিতাব নাজিল করা হয়েছে তা তিলাওয়াত কর এবং নামাজ কায়েম কর”। উক্ত আয়াতে বর্ণিত আদেশের ১ম কুরআন তিলাওয়াতের আর ২য়টি নামাজ কায়েমের। যারা নামাজী এবং নামাজ কায়েমে সচেষ্ট কিন্তু কুরআন তিলাওয়াত করেন না অথবা কুরআন পড়তেই জানেন না, তারা ১ম আদেশটি অমান্যকারী (মুসলিম মাত্রই জানতে হবে যে, নামাজ যথাযথ হওয়ার জন্য সুরা ক্বিরাত ছহীহ হওয়া জরুরি। নামাজ ভঙ্গের কারণ সমূহের অন্যতম হচ্ছে নামাজে সুরা ক্বিরাত অশুদ্ধ পড়া)। আল্লাহর এই আয়াতের ২টি আদেশ মানতে হলে এবং আল্লাহর দরবারে নামাজ কবুল করাতে হলে কুরআন তিলাওয়াত শিখতে হবে, তিলাওয়াত করতে হবে।৫। সূরা ত্ব-হা এর ১২৪ থেকে ১২৬ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, “আর যে আমার উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে বড় সংকটময় এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাব। সে বলবে, হে আমার রব! কেন আমাকে তুমি অন্ধ করে উঠালে? আমি তো দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলাম। আল্লাহ বলবেন, এভাবেই আমার আয়াত সমূহ তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। আজ সেভাবেই তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে।” কিয়ামতের দিন অন্ধ হয়ে উঠতে না চাইলে, চোখ নিয়ে উঠতে হলে কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে। ৬। “আর রাসূল বলবেন (অভিযোগ করবেন), হে আমার রব! আমার উম্মত এ কুরআনকে বিলকুল পরিত্যাগ করেছিল” (সুরা ফুরকান, ৩০নং আয়াত। তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন এবং তাওযীহুল কুরআন দ্রষ্টব্য)। রাসূল (সাঃ)-এর অভিযোগ থেকে বেঁচে তাঁর শাফায়াত পেতে হলে কুরআনকে আঁকড়ে ধরতে হবে।৭। সুরা আলে ইমরানের ১৬৪নং আয়াতে বর্ণিত হ য়েছে, “প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অতিবড় অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের সামনে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়ার করে, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়। যদিও এর আগে তারা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিল” (অনুরূপ বর্র্ণনা রয়েছে, সুরা জুমুআর ২য় আয়াতেও)। নবীওয়ালা কাজ করতে হলে কুরআন শিখতে হবে, কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে এবং অন্যদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতে হবে, কুরআন শিখতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে (কুরআন না শিখেও নবীওয়ালা কাজের দাবীদারের সংখ্যা দিনদিন আশংকাজনক হারে বাড়ছে)। ৮। আল্লাহ ঘোষিত আনন্দ করতে হলে এবং আল্লাহর দৃষ্টিতে পুঞ্জীভূত সম্পদের চেয়েও বড় সম্পদের অধিকারী হতে হলেও আমাদের কুরআন জানতে হবে। কুরআন জানা, কুরআন শিখা, কুরআন পড়া, কুরআন বুঝা এবং কুরআন মেনে চলাই হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ, সবচেয়ে বড় সম্পদ। সুরা ইউনুসের ৫৮নং আয়াতে আল্লাহর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা হচ্ছে, “বল এ জিনিসটি (কুরআন) আল্লাহর অনুগ্রহে ও তার রহমতে। অতএব তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা কিছু সম্পদ পুঞ্জীভূত করে, তা অপেক্ষা এটি কতই না শ্রেয়”!৯। পরকালে ব্যর্থ আফসোস থেকে বেঁচে মহাসাফল্য লাভের জন্য এবং নিজের হাত নিজেই দংশন করা থেকে, কামড়ানো থেকে বাঁচতে একমাত্র উপায় হচ্ছে কুরআনের পথ অবলম্বন করা। সুরা ফুরকানে বর্ণিত হয়েছে, “আর সেদিন জালিম নিজ হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায়! কতই না ভাল হত, আমি যদি রাসূলের সাথে একই পথ অবলম্বন করতাম। হায় দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করতাম। সে তো আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল কুরআন থেকে, আমাকে কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল তা আমার কাছে আসার পরে। আর শয়তান তো মানুষের জন্য মহা প্রতারক” (আয়াত ২৭, ২৮, ২৯)। উল্লেখ্য, প্রতিটি প্রশ্নই কুরআন থেকে নেয়া এবং কুরআনের আলোকে ১০টি প্রশ্নের উত্তর শুধুমাত্র একটিই। আর তা হচ্ছে কুরআন, কুরআন এবং কুরআন। ঈমানদার নর-নারীকে কুরআন তিলাওয়াত শিখতে হবে, কুরআন তিলাওাত করতে হবে, কুরআন বুঝার চেষ্টা করতে হবে এবং কুরআনের আদেশ ও নিষেধ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে। মনে রাখা অতীব জরুরি যে, নামাজ, যাকাত, রোজা ও হজ যেমন ফরজ, কুরআন শেখাও ফরজ এবং কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহর নির্দেশ (উল্লেখ্য, কুরআন মজিদে তিলাওয়াত শব্দ বিভিন্ন ক্রিয়ারূপে কম বা বেশী ৬৩ বার উল্লেখ হয়েছে আর কুরআন শব্দ উল্লেখ হয়েছে ৬৮ বার)। ঈমানদার মুসলিম নর-নারীর উপর কুরআন মজীদের অনেক হক রয়েছে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সম্পূর্ণ কুরআনের প্রতি ঈমান আনা, কুরআনকে আদর্শরূপে গ্রহণ করা, কুরআন পড়তে শিখা, ছহীহভাবে তিলাওয়াত শিখার জন্য চেষ্টা করা, মেহনত করা, প্রতিদিন তিলাওয়াত করা, বুঝার চেষ্টা করা, নিজ সন্তান-সন্ততিসহ অধীনস্থদেরকে শেখানোর ব্যবস্থা করা, কুরআনের তালিম ও তাবলিগে যে কোনভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং কুরআনের প্রচার-প্রসারে মনোনিবেশ করা। সমাজে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অভাবে যারা আছে তারা অসহায়, তাদের জন্য যারা কিছু করতে সচেষ্ট, তারা নিঃসন্দেহে মানব সেবায় রত। মনে রাখতে হবে মুসলিম হয়েও যারা কুরআন শিখার সুযোগ পায়নি তারা শুধু অসহায় নয় তারা হচ্ছে ‘বড় অসহায়’। এ বড় অসহায়দের (বয়স্কদের) জন্য কিছু করা, তাদের জন্য সর্বত্র কুরআন শেখার ব্যবস্থা করা অবশ্য অবশ্যই বড় মানব সেবা। দুনিয়ার অসহায় কারো বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া, শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া যেমনি সওয়াবের কাজ, কুরআন শেখার- সুরা ক্বেরাত সহিহ করার ব্যবস্থার মাধ্যমে নামাজ সহিহভাবে আদায় করার, আল্লাহর পথে চলার যোগ্য করে তোলার মাধ্যমে জান্নাতের ব্যবস্থার জন্য চেষ্টা করা আরো বড় সওয়াবের কাজ। তবে এ কাজটি মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। নিভু নিভু ব্যতিক্রম ছাড়া এ অবহেলা উপেক্ষা শুধু সাধারণ শিক্ষিতদের নয়, এ অবহেলা উপেক্ষা ধর্মীয় নেতৃত্বদের, ধর্মের পথে যারা ডাকেন তাদেরও। কুরআন শিক্ষার বিষয়টি (সাধারণ শিক্ষিত, পেশাজীবি, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, যুবক-যুবতী ও বয়স্কদের বেলায় বেশি প্রযোজ্য) এমনই বেগতিক যে, কুরআন শিখা যে ফরজ এ কথা আমরা যেন ভুলতেই বসেছি, ধর্মীয় নেতৃত্ব কুরআন শিখতে, পড়তে বলবেন একথাও যেন ভুলতে বসেছেন! কিছু মিডিয়া যেমন বলে থাকে আমাদের সাথে থাকুন (সত্য আর মিথ্যা যাই বলি) তেমনি ধর্মীয় নেতৃত্বও আমরাই হকের ওপর- আমাদের সাথেই থাকুন বলেন, কিন্তু হক তালাশের জন্য কুরআন শিখুন, কুরআন পড়ুন, কুরআনে হক তালাশ করুন এ কথা কি বলেন বা বলার প্রয়োজন মনে করেন? আলেম-ওলামা, খতিব-ঈমাম, পীর-মাশায়েখসহ ধর্মীয় নেতাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, ২০/৩০/৪০/৫০ বৎসর যাবৎ নামাজ পড়ছেন, প্রথম কাতারের মুসল্লি (মসজিদ কমিটির সম্মানিত সদস্যও হয়তো) কিন্তু কুরআন পড়তে জানেন না, নামাজের সূরা ক্বিরাতও সহিহ শুদ্ধ নয়, যুগ যুগ ধরে পীর-মাশায়েখের তাছবিহ আদায় করে, নিয়মিত জিকির করে, জিকিরের মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন কিন্তু কুরআন তিলাওয়াত করে না, কুরআন পড়তে জানেন না, সূরা ক্বিরাত সহিহ নয়, নিয়মিত তালিমে বসেন কিন্তু সেখানে কুরআনের তালিম না পেয়ে আল্লাহর পথে আছে মনে করলেও আল্লাহর কিতাবই পড়তে পারেন না, পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কেও তালিম পাননি, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বাস্তবায়নে সচেষ্ট কিন্তু বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনাপূর্ণ কুরআন সহিহভাবে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি, এমন সংখ্যা কি নিতান্তই কম? একটু খোঁজখবর নিলে, জরিপ চালালে বোঝা যাবে কত বেশি এবং কি হারে বাড়ছে এ সংখ্যা। মসজিদের খতিব সাহেব খুতবা দেন, ঈমাম সাহেব নামাজ পড়ান এবং মসজিদ কমিটি মসজিদের উন্নয়নে আর মুসল্লিদের সুবিধের জন্য ব্যবস্থা নেন। কিন্তু এ তিন পক্ষ কি খোঁজ নিয়েছেন তাদের মসজিদের কতজন মুসল্লি কুরআন পড়তে জানেন, কত জনের সূরা ক্বিরাত সহিহ, কত জনেরইবা কুরআন পড়া সহিহ? নিজ মসজিদে দয়া করে খোঁজ নিলে আঁতকে উঠতে হবে, শতকরা ২ থেকে ৭ জন পাবেন কিনা সন্দেহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>