খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ

ইজাব টিভি ডেস্কঃ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আপিল বিভাগের শুনানি আজ। কী আদেশ দেন তা জানতে বিএনপির নজর থাকবে আদালতের দিকে। শুধু বিএনপি নয়, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে কৌতূহল। বিএনপির নীতিনির্ধারকসহ আইনজীবী নেতাদের আশা, শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পাবেন খালেদা জিয়া। জামিন পাবেন এমন প্রত্যাশা নিয়ে আজ আদালতের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ না দিলেও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা আদালতের বাইরে অবস্থান নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কোর্টের আশপাশে শোডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরপাকড় করতে পারে এমন শঙ্কাও আছে তাদের। তাই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবেলার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। জামিন না দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে নেতাকর্মীদের। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মামলায় জামিন হয়েছে। আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি। এ মামলায় জামিন হলে একই বিবেচনায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এরপর নতুন করে মামলা না হলে তার মুক্তিতে কোনো বাধা থাকবে না।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসনের মামলার জামিনের শুনানি আজ। আশা করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্যের সঠিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেবেন। সরকার কোনো হস্তক্ষেপ না করলে চেয়ারপারসন আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সারা দেশের মানুষের নজর আজ আদালতের দিকে থাকবে। কারণ খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি নয়, সারা দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় নেত্রী। তাকে অন্যায়ভাবে কারা অন্তরীণ রাখা হয়েছে। তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন- এমনটাই প্রত্যাশা সবার। খালেদা জিয়ার মামলার আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন দেবে বলে আমরা আশাবাদী। এ মামলায় খালেদা জিয়ার কোনো ভূমিকা নেই। তারপরও আমরা ওদিকে না গিয়ে শুধু মানবিক কারণে তার জামিন চেয়েছি। আশা করছি, সর্বোচ্চ আদালত জামিন দেবেন।

যে মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেই মামলায় তার জামিন হওয়া উচিত ছিল। যদি আজ জামিন না দেয় তাহলে বুঝতে হবে, সরকারের প্রভাব বা রাজনৈতিক কারণে তার মুক্তি মিলছে না। মানবিক কারণেও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। তবে আমি সব সময়ই বলে আসছি, কোনো রাজনৈতিক মামলার কারণে খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়নি। তিনি আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বন্দি। তাই আইনের প্রক্রিয়া যতই আমরা বলি না কেন, সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া তাকে মুক্ত করা যাবে না। আজ আদালত থেকে নেতিবাচক কোনো আদেশ এলে দ্রুত দলের নীতিনির্ধারকরা বসে পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত করবেন। সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা অপেক্ষায় থাকবেন। কোনো কারণে জামিন না হলে সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে প্রভাবের অভিযোগ এনে ওইদিনই সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও বেশকিছু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বরজুড়েই রাজপথের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় থাকবে তারা। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এরপর চূড়ান্তভাবে সরকার পতনের এক দফায় যাওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১৪ নভেম্বর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। পরে ১৭ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জামিন আবেদনটি আপিল বিভাগে কার্যতালিকাভুক্ত হয়। ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। এদিন আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন শুনানি মুলতবি করেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করতে আইনজীবী প্যানেলে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, ফারুক হোসেন ও একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ। দুদকের পক্ষে রয়েছেন খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে গত বছর ২৯ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। ১৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার দণ্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। ৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনও করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল ওই আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

জামিন বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া দেখে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত- রিজভী : কারাবন্দি চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া দেখে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। বুধবার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তার জামিনের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া দেখে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যখন গণতন্ত্রের জায়গা বন্ধ হয়ে যায় তখন রাজপথেই তার সমাধান করতে হবে। খালেদা জিয়ার জামিন না হলে বিএনপি কী ধরনের কর্মসূচি দেবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, দেখি না বৃহস্পতিবার কী হয়? আমরা কতদিন অপেক্ষা করব, উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন বলে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাই তার জামিন পাওয়া ন্যায়সঙ্গত অধিকার। এর আগে এ ধরনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অনেকেই জামিন পেয়েছেন, তার অসংখ্য নজিরও রয়েছে। জাতি দেশনেত্রীর জামিনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে বলে জানান তিনি।