বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০৯ রানের লিড পাকিস্তানের, হাতে ৭ উইকেট

ইজাব টিভি ডেস্কঃ রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০৯ রানের লিড নিয়েছে পাকিস্তান। বাবর আজম ও শান মাসুদের সেঞ্চুরিতে ভর করে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪২ রান। এদিন মাঠে খেলা গড়িয়েছে ৮৭.৫ ওভার। ১৪৩ রান করে একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন বাবর আজম। ১৯২ বলের এ রানে রয়েছে এক ছয় ও ১৯ চারের মার। অপর প্রান্তে ৬০ রান করে অপরাজিত আছেন আসাদ শফিক। ৮টি চারের মারে ১১১ বলে এ রান করেছেন তিনি।

দ্বিতীয় দিনের শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলেন মুমিনুলরা। প্রথম সেশনেই দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দেশের জন্য সাফল্য এনে দেন আবু জায়েদ রাহী। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ফিরিয়ে দেন টেস্ট ক্যারিয়ারে পরপর দুই সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলিকে। রাহীর বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিটি খেলতে গিয়ে শূন্য রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন আবিদ। চোখের পলকে সেই বল গ্লাভসবন্দী করে নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। পাকিস্তানের বোর্ডে তখন মাত্র ২ রান। এরপর অধিনায়ক আজহার আলিকে নিয়ে ৯১ রানের জুটি গড়েন ওপেনার শান মাসুদ। ২৩তম ওভারে আবারো পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন রাহী। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৩৪ রানে ফেরেন পাকিস্তানি অধিনায়ক। ৫৯ বলে ৪টি চারের মারে এ রান করেন তিনি। রাহী পাকিস্তানি অধিনায়ককে ফেরালেও বাংলাদেশের অন্য বোলাররা নিজেদেরকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। বাবর আজমকে নিয়ে জুটি বাঁধেন শান। এ জুটি থেকে আসে ১১২ রান।

৫৪তম ওভারে বল করতে এসে শানকে বোল্ড করেন তাইজুল। তবে ততক্ষণে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ১৬০ বলে ১১টি চারের মারে ১০০ রান করেন পাকিস্তানি এই ওপেনার। এর আগে শানের ব্যক্তিগত রান যখন ৮৬, তখন অফস্ট্যাম্পের বেশ বাইরের এক ডেলিভারিতে অলস ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে যান। কিন্তু ঠিকভাবে ব্যাট চালাতে না পারায় ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে লিটনের তালুবন্দি হন। তবে সেটি যে ব্যাটে লেগেছিল একদমই বুঝতে পারেননি রুবেল কিংবা লিটন। ফলে দুজনের কেউই আবেদন করেননি। যার ফলে কট বিহাইন্ড হয়েও বেঁচে যান শান। শেষমেষ জীবন ফিরে পাওয়ার ফায়দাটা সেঞ্চুরি করে ভালোভাবেই নেন তিনি।

শানের আউটের পর ক্রিজে নামেন আসাদ শফিক। জুটি বাঁধেন বাবরের সাথে। বাবর-শফিক জুটি থেকে আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৩৭ রান। এরপর ম্যাচের বাকি অংশটা ছিল শুধুই পাকিস্তানের। বাংলাদেশি বোলাররা আর সুবিধা করতে পারেননি। ৩.৮৯ রান রেটে অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে রান তুলেছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। শানের পর টেস্টে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান করে নিজের ৫ম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাবর আজম। ১৪৩ রান করে ক্রিজে আছেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেয়া শফিক তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৭তম অর্ধশতক। ১১১ বলে ৮টি চারের মারে ৬০ রান করে অপরাজিত আছেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে আবু জায়েদ রাহী ২টি ও তাইজুল ইসলাম একটি উইকেট নেন। এ ছাড়া আর কোনো বোলার সফল হতে পারেননি।

এর আগে ম্যাচের প্রথম দিন পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ৮২.৫ ওভারে ২৩৩ রান করে বাংলাদেশ। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ রান আসে ডানহাতি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাট থেকে। ১৪০ বলে ১টি ছয় ও ৭টি চারের মারে এ রান করেন তিনি। এ ছাড়া তামিম ৩ (৫ বল), সাইফ হাসান ০ (২), নাজমুল ইসলাম শান্ত ৪৪ (১১০), মুমিনুল হক ৩০ (৫৯), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২৫ (৪৮), লিটন দাস ৩৩ (৪৬), তাইজুল ইসলাম ২৪ (৭২) রুবেল হোসেন ১ (৯), আবু জায়েদ রাহী ০ (৫) ও এবাদত হোসাইন (অপরাজিত) ০ (৪) রান করেন। পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪টি, মোহাম্মদ আব্বাস নিয়েছেন ২টি, হারিস সোহেল ২টি ও ইয়াসির শাহ নিয়েছেন ১টি উইকেট।