ধন্য আমি নারী, আমার দায়িত্ব কি?

শাহানা আবেদিন

লেখক ও ফ্যাশন ডিজাইনার

——————————

আমি নারী এটা যেমন ঠিক
তার আগে প্রথমে আমি মেয়ে>বোন>সহধর্মিণী> ঘরের বৌ> এবং মা।
এর খেকে ও আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি জান্নাত। (আলহামদুলিল্লাহ)

🔸🔹 ইসলামি দৃষ্টিতে স্বামীর ঘরে নারীর কর্তব্য
😐 আমি প্রথমে যখন মেয়ে থাকি তখন আমি হেসে খেলেই সময় পার করি। তখন তেমন কোনো কর্তব্য থাকে না। আর থাকলে ও তেমন পালন করি না।
😘 কিন্তু আমাকে তো নারী ও বলা হয়। আর এই নারী তখন ই আমাকে বলে যখন আমি দায়িত্বশীল হয়ে যাই। আর আমি দায়িত্বশীল তখন ই হই যখন আমি কারো সহধর্মিণী হই।
🖕কাজী নজরুল বলেছেন –
‍‍ ‍“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।”
কবি এখানে ছেলেদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলার কথা বা অর্জনের কথা বলেন নাই, তিনি বুঝাতে চেয়েছেন প্রতিটা সফল ব্যাক্তির পিছনে একটি অনুপ্রেরণার ব্যাক্তি থাকে আর তা হলো নারী।
আর আমরা জানি সেই অনুপ্রেরণার নারীটাই বেশির ভাগ হয় তার সহধর্মিণী। যাকে আমরা লাইফ পার্টনার বলে থাকি। যিনি বিয়ের পর থেকে মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত জিবনের সকল পার্টের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকেন। এক কথায় এটাকে অক্সিজেন ও বলা হয়ে থাকে। যে অক্সিজেন ছাড়া আমরা এক সেকেন্ড ও বাঁচতে পারি না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন একজন নারী ও পুরুষকে একজন আরেকজনের সহযোগী হিসাবে পাঠিয়েছেন।

🔸🔹 আসুন তাহলে জেনে নেই, সে নারী বলেন আর অক্সিজেন ই বলেন স্বামীর প্রতি তার কি কি দায়িত্ব থাকা উচিত।
পারিবারিক জীবনের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে, একটি সুন্দর পরিপাটি সংসার উপহার দিতে, একটি ভদ্র ও সম্ভ্রান্ত পরিবার গড়তে, একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে, পারিবারিক, সামজিক সুখ-শান্তি, রক্ষার্থে, মান-ইজ্জত, মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখতে আল কুরআনের বিধি বিধান ও রাসূলে করীম [সা.] এর সুন্নাত অনুযায়ী জীবন যাপন করে দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি হাসিলের জন্য স্বামীকে যেমন কতকগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়, তেমনি স্ত্রীকেও।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যত উত্তম হবে দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। কুরআন এবং হাদিসের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, উত্তম স্ত্রী হলো তারা, যারা স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে।
কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা তা ঘোষণা করেন-‘তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৭)
আবার যে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে না এবং স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে তার সম্পর্কে হাদিসে কঠোরভাবে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তার কোনো নামাজ কবুল হয় না, কোনো নেক আমল ওপরে উঠানো হয় না; যতক্ষণ স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হবে।’ (ইবনে হিব্বান)
স্বামীর প্রতি কর্তব্যগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নরুপ –
👉 স্বামীর সাথে হাসিমুখে কথা বলাঃ-
স্বামী যখনই বাহির থেকে আসেন হাসি মুখে উনার সাথে কথা বলেন। তিনি যত ক্লান্ত শ্রান্ত হয়েই ঘরে ফিরে আসুক না কেন আপনার হাসি আর হৃদ্যতাপূর্ণ ভালোবাসা উনার সকল কিছু ক্লান্তি কে মুছে দিবে।
👉 তাকওয়া ও আমানতদারিতা :
রাসূলে করীম [সা.] বলেন, মুসলিমের জন্য তাকওয়ার পর সবচেয়ে উত্তম জিনিস হচ্ছে- নেককার চরিত্রবতী স্ত্রী। এমন স্ত্রী যে স্বামীর আদেশ মেনে চলে, এবং স্বামী কোনো বিষয়ে কসম দিলে, সে তা পূরণ করে। আর স্বামীর অনুপস্থিতে তারা নিজের ও স্বামীর ধন সম্পত্তির ব্যাপারে স্বামীর কল্যাণকামী হয়।
👉 প্রেম-ভালোবাসাময়ঃ-
আচরন-উপস্থাপন : কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী স্বামীর যেমন স্ত্রীর প্রতি কোমল হতে হবে, তেমনি স্ত্রীরও স্বামীর প্রতি অনুগত হতে হবে, তাকে সেভাবে ভালোবাসতে হবে, তার কল্যাণ ও সুখের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
👉 পর্দা মেনে চলাঃ-
পর্দা গ্রহণ করা এবং শালীনতা রক্ষা করে চলা সম্ভ্রান্ত বংশের মহিলাদের চিহ্ন। মুসলিম মহিলাদের জন্য তা ফরয। বিশেষ করে বাইরে যেতে হলে আবরু রক্ষা করে চলা কর্তব্য।
👉 স্বামীর বদান্যতা :
ইসলামে পরিবার হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে উভয়েরই অবদান মূল্যবান। তবে পরিবারের শান্তি শৃংখলা রক্ষার খাতিরে একজনের নেতৃত্ব মেনে চলা প্রয়োজন। নারীর স্বাভাবিক দুর্বলতা, নানাবিধ দৈহিক অসুবিধা এবং পুরুষের তুলনায় তার দৈহিক ও মানসিক অসম্পূর্ণতার কারণে ইসলামে স্ত্রী পুরুষের পারস্পরিক জীবনে পুরুষের প্রাধান্য ও নেতৃত্ব স্বীকার করে নিয়েছে। কেননা, পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে যে কোনো প্রতিকূলতা, অসুবিধা ও বিপদ মুসীবত আসতে পারে, কিংবা সাধারণতঃ এসে থাকে, তার মুকাবিলা করা এবং সমস্যা ও জটিলতা সমাধান করার উপযুক্ত ক্ষমতা যোগ্যতা পুরুষেরই রয়েছে। সাধারণত পুরুষের তুলনায় স্ত্রীলোকদের এসব ক্ষমতা অনেকাংশে কম ও অপ্রতুল। একথা বাস্তব দৃষ্টিতে ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে অনস্বীকার্য।
👉 স্বামীর সন্তুষ্টি লাভে সচেষ্ট হওয়াঃ-
কোরআন ও হাদীসের আলোকে স্বামীর যেমন কর্তব্য স্ত্রীর সন্তুষ্টি লাভের জন্য চেষ্টা করা, তেমনি স্ত্রীরও তাই কর্তব্য। স্ত্রীর যাবতীয় কাজ কর্মের লক্ষ্য থাকবে।

প্রতিটি স্ত্রীর পবিত্র দায়িত্ব নিজের সতীত্ব রক্ষা করা। সতী সাধ্বী ও উত্তম চরিত্রের রমণীদের পরিচয় দিতেঃ-
👉 গোপনীয়তা রক্ষাঃ-
স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের ইজ্জত রক্ষক ও। তাই স্ত্রীর গোপন বিষয় যেমন স্বামীর জন্য অন্য কারো কাছে প্রকাশ করা কোনো মতেই বৈধ নয়, ঠিক তেমনি স্ত্রীরও স্বামীর কোনো গোপন কথা বা গোপন বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করবে না। একে অপরের গোপনীয়তা রক্ষা করা পবিত্র আমানত। এ আমানতের খিয়ানত করা সাংঘাতিক গোনাহর ব্যাপার। পারিবারিক জীবনে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোনো ব্যাপারে মতের মিল নাও হতে পারে, কখনও রাগ অভিমানও হতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই স্বামী যেমন স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিতে পারবে না, স্ত্রীও তেমনি স্বামীর ঘর থেকে বের হয়ে যেতে পারবে না।

👉 দ্বীনী সহযোগিতাঃ-
সত্যিকার অর্থে প্রকৃত বুদ্ধিমতী, জ্ঞানবতী তারাই যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের [সা.] সন্তুষ্টির জন্য কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ অনুযায়ী নিজেদের জীবনকে পরিচালিত করে। আল্লাহ তাআলার দাসত্ব ও আনুগত্য করা এবং তারই সন্তুষ্টি ও মর্জি অনুযায়ী চলার জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই স্বামী স্ত্রীর কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর দীন পালনের জন্য ইবাদত বন্দেগীর পথে একে অপরকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করা।

❤❤ স্বামীর সংসারের প্রতি সহনশীল হওয়াঃ-
একজন নারীকে মনে রাখতে হবে, আমি শুধু একজন স্বামীর কাছে আসিনাই। আমি একটা পরিবারের কাছে ও আসছি। আর তার পরিবার মানে আমার পরিবার। তাই স্বামীর সাথে সাথে তার পরিবারের প্রতি ও যত্নশীল হওয়া। তার পরিবারের প্রত্যেকটা ব্যাক্তির প্রতি যত্নবান হওয়া। স্বামীর সাথে বসে পরামর্শ করে ঘরের সকল পরিকল্পনা তৈরি করা। স্বামীর ঘরের প্রতিটা মানুষের জন্য কিছু না কিছু করা যতটুকু সাধ্যের ভিতর আছে। এমন কি কাজের লোকটা ও যেন এর থেকে বঞ্চিত না হয়।
আর যে ব্যক্তিটা অভাবি আছেন তাকে বেশি হেল্প করা এই জন্য স্বামীকে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা দেয়া। যে দানে কমে না বরং বাড়ে। এই ভাবে তার সন্তান সন্তুুতিকে ও সেই মানুষিকতায় বড় করা।
আল্লাহ রাসুল বলেছেন, কোনো অভাবী কে খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না। তোমার হাত খালি থাকলে অন্তত একটা মুচকি হাসি দিয়ে হলে ও সদকা আদায় কর। সুবহানাল্লাহ। এই আমার রাসুলের শিক্ষা।

♦♦♦ আমার এক ফ্রেন্ডের কথা দিয়ে স্বামীর এবং তার সংসারে দায়িত্ব কর্তব্য বিষয়টি শেষ করব। ইনশাআল্লাহ
🌹🌹🌹 তিনি বলেন, আমি যদি আমার ভাইদের সাথে পাশাপাশি অবস্হানে থাকি তাহলে আমি তাদের কে হেল্প করতে পারবো না। আর তাদের কে উপরে তুলতে হলে আগে আমাকে উপরে উঠতে হবে এবং এরপর তাদের কে ও আমার সাথে উপরে নিয়ে আসতে হবে। সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ। কত সুন্দর যুক্তি। মনে পড়লে আমার চোখের পানি চলে আসে। এটাই ইসলাম আর এটাই আমার নবীর শিক্ষা।
এই ভাবে যদি আমরা সবাই একটু চিন্তা করতে পারতাম তাহলে আজ পৃথিবীতে ধন সম্পদ নিয়ে ভাইদের সাথে ভাইদের মারামারি, খুনাখুনি, রাহাজানি হতো না।

✏ মনীষিদের উক্তিঃ-
জ্ঞানী লোকদের কান টা বড় আর জিব টা ছোট [ চীনা প্রবাদ]
একটা জ্ঞানী বন্ধু ১০০ টা লাইব্রেরীর সমান।
[ আবদুল কালাম]
ভালো লোকের সংস্পর্শে থাকো, তোমার বুদ্ধি না থাকলে ও তারা সময় মত তোমাকে ভালো পরামর্শ দিবে।
[ টমাস ফুলার ]
নতুন জানার যেমন যন্ত্রণা ও আছে তেমনি আনন্দ ও আছে।
[ ক্রিস্টোফার মর্লি
হাজারটা বোকা বন্ধু থাকার চাইতে, একটা জ্ঞানী বন্ধু থাকা উত্তম।
ওমা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ।