বন্ধুত্ব সম্পর্ক আজীবনের, এ বাধন ছিড়ে যায় না

শাহানা আবেদীন

লেখক ও ফ্যাশন ডিজাইনার

——————————-

আমার একটা প্রিয় গায়ক অঞ্জন দত্তের সেই গানটির কথা মনে পড়লো-
“বন্ধুত্বের হয় না পদবী
বন্ধু তুমি কেঁদো না
বন্ধু সবুজ চিরদিন
বন্ধুত্বের বয়স বাড়ে না।
হয়তো তোমার বারান্দায়
থাকবেনা আমার জামা
তবুও মনের জানালায় অবাধ আনাগোনা
বন্ধু তোমার আমি তাই, অন্য দাবি রেখো না।।”
🌹🌹 সব নিয়ম অনিয়ম, বিশ্বাস, নির্ভরতার মিলনস্থল হচ্ছে বন্ধু। যে কথা কাউকে বলা যায় না, তার দরজা খুলে দেয়া যায় বন্ধুর সামনে। বন্ধু কখনো শিক্ষক, কখনো সকল দুষ্টুমির একমাত্র সঙ্গী। মনের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস, আবেগ আর ছেলেমানুষী হুল্লোড়ের অপর নামই তো বন্ধুত্ব। সেই তো বন্ধু। অর্থ দিয়ে কেনা যায় না বন্ধুত্ব, কিংবা গায়ের জোরেও হয় না বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের জন্য চাই শুধু গুণ ও সুন্দর একটা পবিত্র মন।

বন্ধুত্বের জন্য করণীয় নিম্নে দেয়া হলোঃ-
👉 বন্ধুত্ব চিরকালেরঃ-
প্রিয় বন্ধু চিরদিনের। হতে পারে দু’জনে আলাদা কলেজ গিয়েছেন, আলাদা শহরে জীবন-যাপন করেন, প্রাত্যহিক জীবনের নানা কর্মকান্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, কিন্তু এত কিছুর পরও ভালো বন্ধুত্ব কখনোই হারিয়ে যায় না। দুজন ভালো বন্ধু কখনোই একে অপরকে ভুলে যায় না।
👉 দুঃসময়ে পাশে থাকাঃ-
এক বন্ধুর বিপদে চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই অন্য বন্ধুর সাড়া দেওয়াই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়। প্রয়োজনে সময়ে অসময়ে বন্ধুর বিপদে তাকে সাহায্য করা। যে বন্ধুর জন্য আপনি এমন করতে পারবেন এবং যে বন্ধু আপনার পাশে সর্বদা থাকতে পারবে, সে-ই আপনার সত্যিকার বন্ধু।
👉 বন্ধুত্বের ইচ্ছেকে সম্মান জানানোঃ-
বন্ধুর ইচ্ছাকে সবসময় সম্মান জানানো উচিত। যদি তা পছন্দ না হয়, তবে সরাসরি বলুন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা অবশ্যই জরুরি। সমালোচনা করুন, তবে কটুক্তি নয়। একবার ভুল হলে তাকে ছুঁড়ে না ফেলে তা শুধরে নেওয়াই প্রকৃত বন্ধুর দায়িত্ব।


👉 বন্ধুকে সময় দেওয়াঃ-
মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রতিনিয়ত সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। বন্ধুরা হয়তো আগের মতো সময় দিতে পারে না। এর ফলে যে দুই বন্ধুর মধ্যে সম্পর্কের ব্যাঘাত ঘটবে তা কিন্তু না। নতুন বন্ধুদের পাশাপাশি পুরোনো সম্পর্কগুলোকে ঝালাই করে নিতে হয় প্রতিনিয়ত।
👉 বন্ধুত্বকে টিকিয়ে রাখতে শেখাঃ-
বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন কাজ। তবে একজন প্রকৃত বন্ধু সব সময়ই সম্পর্ককে প্রাধান্য দেন। তবে অনেকেই জানে না যে বন্ধুত্ব কিভাবে টিকিয়ে রাখতে হয়।
👉 অভিযোগ নয়ঃ-
বন্ধুর সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতানৈক্য হলে বা কষ্ট পেলে মনের মধ্যে তা পুষে না রেখে সরাসরি তাঁকে জানানো ।
👉 ‘সরি’ বলুনঃ-
আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হঠাৎ করে দূরত্ব তৈরি করলে মাথায় রাখতে হবে, হয়তো আপনার অজান্তে তাঁকে কষ্ট দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে অভিমান না করে এগিয়ে যান, জানতে চান, প্রয়োজনে ‘সরি’ বলুন।
👉 প্রয়োজনীয়তাঃ-
সব কিছুতেই আপনার বন্ধুটি আপনাকে প্রয়োজন মনে করছে কিনা। কিংবা কোথাও আপনার প্রয়োজন না থাকলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে কিনা। প্রকৃত বন্ধুই আপনাকে আপন মনে অবলীলায় সব কিছু বলবে।
👉 আশ্বস্তঃ-
কখনো কোনো ব্যাপারে আপনি যদি দ্বিধায় পড়েন তাহলে আপনি সেটা আপনার বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করার পর আশ্বস্ত হচ্ছেন কিনা। যদি মনের ভেতর থেকেই আশ্বস্ত হন তাহলে বুঝবেন স্বাভাবিকভাবেই আপনি তার ওপর দুর্বল এবং এই দুর্বলতা এমনিতেই তৈরি হয়নি, সে অবশ্যই আপনার প্রকৃত বন্ধু। কারণ প্রকৃত বন্ধুর কাছেই নিজের সমস্যার কথা বলে আশ্বস্ত হওয়া যায়।
👉 মানসিকতাঃ-
বন্ধুত্ব মূলত মানসিকতার মিলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। দুজনের মানসিকতার মিল না থাকলে সে প্রকৃত বন্ধু হবার ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
👉ক্রটিঃ-
প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু ক্রটি থাকেই। কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়। তবে প্রকৃত বন্ধু হতে গেলে অপরজনের ক্রটি মেনে নিতে হবে। তবে সবথেকে ভালো হয় আপনার বন্ধুটি আপনাকে যদি আপনার ক্রটির বিষয়ে সচেতন যদি করিয়ে দেয় কিনা। প্রকৃত ভালো মানুষ আরেকজনের ভালো চায়।
👉 বিশ্বাসঃ-
সবশেষে বিশ্বাস অতি জরুরি। বলা হয়ে থাকে যেকোনো ভালো সম্পর্ক গড়ে বিশ্বাসে মুড়িয়ে। বিশ্বাস হলো বন্ধুত্বের প্রথম শর্ত।
🔷 পরিশেষে একটাই কথাই বলবোঃ-
❤❤❤ যে বন্ধুটি আপনাকে সব সময় নক দিচ্ছে বিভিন্ন ভাবে। আপনি এতে বিরক্ত হবেন না কারন সে আপনাকে বন্ধু ভাবছে আপনি তা বুঝতেছেন না।
এটা তার দুর্বলতা নয় এটা তার বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা।
❤❤❤ আপনি হয়ত মনের অজান্তেই অহংকারী করতেছেন, মেধাবী হয়ে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা কিংবা জব করার কারনে, বা কি ধনীর বাবার সন্তান হওয়ার কারনে। কিন্তু আপনার বন্ধুটি হয়ত আপনার যায়গায় কখনোই পোঁছাতে পারবে না। তাকে আপনার প্রতিদন্ধি না ভেবে শুধু একজন মানুষ হিসাবে ভাবুন এবং সম্মান করুন।
আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতে বলেছেন।
وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ
আমি তোমাকে যতটুকুই জ্ঞান দেই, তুমি ঠিক ততটুকুই নিতে পারো।
❤❤❤ একটা বন্ধুত্ব বিয়ের মত রিলেশন থেকে ও গাঢ় হয় কারন বিয়ের পর তো স্বার্থ থাকে, অধীকার থাকে, দায়িত্ব থাকে, দাম্পত্য জিবনের টানাপোড়ন থাকে তাই সব কিছু মিলিয়ে একটা ভালো মন্দ লাইফ লীড করতে হয়। এসব জিনিস বন্ধুত্বের ভিতর থাকে না বলে ই সেই রিলেশন টা অনেক অনেক মধুর এবং বিশ্বাসের, নির্ভরতার হয়।
সো এড়িয়ে যাওয়া নয় কাছে টেনে নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।