রাজধানীতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০ খুন

ইজাব টিভি ডেস্কঃ ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম জানিয়েছেন, রাজধানীতে গড়ে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০টি খুনের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো। আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা ছোট ভাই-বড় ভাই, সালাম দেওয়া-না দেওয়া, সিগারেট খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এসব ছোট ছোট কারণে খুনের মতো ঘটনাও ঘটছে। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সোমবার মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িতদের অধিকাংশই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদের অপতৎপরতা রোধে কাজ করছে মহানগর পুলিশ । ঢাকা শহরে কিশোর গ্যাং কালচারে জড়িতদের প্রোফাইলিং (তালিকা) করা হচ্ছে জানিয়ে মাহবুব আলম বলেন, এখানে জড়িত তাদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের পরিবারের। করোনার সংকটকালে শহরে এমন গ্যাংয়ের তৎপরতা কমে গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবারও তাদের তত্পরতা বেড়েছে।

রাজধানীর কদমতলী ও মুগদা এলাকায় চাঞ্চল্যকর পৃথক দুটি হত্যার ঘটনায় পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। শনিবার রাতে রাজধানীর পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এসংক্রান্তে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মুগদা থানা এলাকায় সালাম দেওয়া-না দেওয়াকে কেন্দ্রফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিম। গ্রেফতারকৃতরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। কিশোর গ্যাং কালচারের নেপথ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়া বা প্রভাব অনুঘটক কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। ডিএমপির সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে, যে বা যারাই কিশোর গ্যাংয়ে জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর নেপথ্যে থেকে প্রভাবশালী কেউ কিংবা রাজনৈতিক ছত্রছায়া দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে কদমতলী থানাধীন ১৩৪০ পূর্ব জুরাইন কলেজ রোডে, নবারুণ গলিতে অজ্ঞাতরা জাকির হোসেনের বুকে-পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পায়ের রগ কেটে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনায় মজিবর রহমান ওরফে মোহনকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। ঐ ঘটনায় কদমতলী থানায় একটি মামলা হয়।

এজাহার, ভিকটিমের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত সাত জনকে শনাক্ত করার পর গ্রেফতার করে ওয়ারী গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো শুক্কুর, নুরুল ইসলাম স্বপন, রতন ওরফে সোলাইমান ওরফে রেম্বো, শফিকুর রহমান ওরফে দিপু, ফাহিম হাসান তানভীর ওরফে লাদেন, তরিকুল ইসলাম তারেক ও মাসুদ পারভেজ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার জন্য তারা জাকির হোসেনকে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শুক্কুরের বিরুদ্ধে চারটি, নুরুল ইসলাম স্বপনের বিরুদ্ধে তিনটি, পারভেজ ও রতনের বিরুদ্ধে দুটি, দিপু ও ফাহিম হাসানের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।