কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার জোড় দাবি জানাচ্ছি : ছারছিনার পীর শাহ মোঃ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী

এম এম মিজানুর রহমান : আজ (১১ মার্চ) কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর ২নং জোন এর উদ্যোগে খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলনে সংগঠেনর সহ সভাপতি, ছারছিনা দরবার শরিফের পীর আলহাজ্ব মাওলানা শাহ মোঃ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, আমরা সরকারের কাছে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করার জোড় দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমার একটা জিনিস ভাবতেই অবাক লাগে, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করার জন্য আমাদের এত আন্দোলন করতে হবে কেনো? আমরা সবাই মুসলিম, আমরা জানি আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নাই আর মুহাম্মদ সা. আল্লাহর শেষ নবি ও রাসুল। যে এ কালিমা মানবে না সে মুসলিম থাকতে পারে না।

আমরা জানি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানও মুসলিম ছিলেন, তিনি ইবাদত গুজার ছিলেন, সবকিছুর পরও আমরা যদি শেষ নবির বিষয়টি না মানি তাহলে আমাদের কোনো ইবাদত লাভ নাই। তাই আমাদের শেষ নবি মুহাম্মদ সা. তারপর আর কোনো নবি নেই এটা মানতে হবে, না মানলে আমাদের ঈমান থাকবে না। আমরা এ মজলিস থেকে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করার জোড় দাবি জানাচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ আন্দোলন কে কবুল করুন।

চরমোনাই দরবারের পীর ও ‏‎ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র নায়েবে আমীর সৈয়দ মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম তার বক্তব্যে বলেন, আমার নবীর পরে নবি নাই, সংসদে আইন চাই, এ আইন পাশ করতে যদি রক্ত দিতে হয়, রক্ত দিবো, আন্দোলন করতে হয় আন্দোলন করবো, যদি জেল খাটতে হয়, জেল খাটবো।
তিনি আরো বলেন, আমার নবিকে নবির গুণে যদি কেউ মানে, কিন্তু শেষ নবি না মানে তারও ঈমান থাকবে না। আমার নবিকে নবিও মানতে হবে, শেষ নবিও মানতে হবে। শেষ নবিও মানতে হবে। এমন অনেক গুণ আছে যেগুলো আমার নবির আগের নবিদের দেওয়া হয়নি। এমন একটি গুণ হলো নবি সা. কে শেষ নবি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আর এটা যে অস্বীকার করবে সে কাফের, যে এটার পক্ষে কথা বলবে সেও কাফের।

রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও জাগরণী সংসদ মাঠে আজ দুপুর ২টা থেকে এ সম্মেলন শুরু হয়। আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মিডিয়া উইং, শাহাজানপুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি সুলতান আহমনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন- মাওলানা শিব্বির আহমদ ও হাফেজ মাওলানা ইউনুছ ঢালী।

এতে প্রধান মুরুব্বি হিসেবে ছিলেন আন্তর্জাতিক মজলিস তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াতের পৃষ্ঠপোষক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন , আন্তর্জাতিক মজলিস তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াতের প্রধান উপদেষ্টা, আমিরে হেফাজত শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, আন্তর্জাতিক মজলিস তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াতের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মাহবুবুল হক কাসেমী, মাওলানা সফিউল্লাহ পীরজঙ্গী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা আব্দুল খালেক শরীয়তপুরী, আন্তর্জাতিক মজলিস তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াতের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মুফতী সাখাওয়াত হোসেন রাজী, মুফতী নজরুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মহিউদ্দিন একরাম প্রমূখ।