শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন: মাহিন্দা রাজাপাকসে

ইজাব টিবি ডেস্কঃ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় সফররত শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। রাজাপাকসে আরও বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে, বাংলাদেশকে সুখী ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে তিনি (শেখ হাসিনা) ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।শুক্রবার রাজধানীর প্যারেড স্কয়ারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত দশ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মিরপুরের সরকারি পিএইচ সেন্টারের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। আজকের অনুষ্ঠানের থিম ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আজীবন লড়াই করেছিলেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তিনি ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বাংলার এই অঞ্চলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে রাজাপাকসে বলেন, বিশেষ করে সমুদ্রপথে দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক রুট ছিল। দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর জোর দেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে রাজাপাকসেকে বহনকারী উড়োজাহাজটি। সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বেলা ১১টার দিকে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহম্মেদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

পরে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বিউগলে বেজে উঠে করুণ সুর। পরে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি পরিজাত ফুলের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী।