রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানিতে ছাড়

ইজাব টিভি ডেস্কঃ আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানিতে ছাড় দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়াতে ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মার্জিন বা আগাম অর্থ রাখতে হবে। অর্থাৎ কম অর্থ আগাম রেখে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সুযোগ আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বহাল রাখতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভোগ্যপণ্যের মধ্যে সাত কোটি ৭৪ লাখ ডলারের এক লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য ঋণপত্র স্থাপন করা হয়। ওই মাসে তিন কোটি ৯৪ লাখ ডলারের এক লাখ তিন হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়। আবার ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের চার লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির জন্য ঋণপত্র স্থাপন করা হয়। ওই মাসে ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের চার লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি হয়। তেমনিভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে ছয় কোটি ৭৬ লাখ ডলারের এক লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়। বিপরীতে ওই মাসে চিনি আমদানি হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন। এ জন্য ব্যয় হয়েছে চার কোটি ৫৯ লাখ ডলার। অপরদিকে ৩৪ হাজার মেট্রিক টন সব ধরনের ডাল আমদানির জন্য দুই কোটি ৪৫ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়। বিপরীতে ওই মাসে ডাল আমদানি হয় ৪০ হাজার মেট্রিক টন। এ জন্য ব্যয় হয় দুই কোটি ২৫ লাখ ডলার। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ সয়াবিন তেলও আমদানি হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ভোগ্য পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ভোগ্যপণ্য মজুদ থাকলেও একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে সামনে রেখে ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে রমজানে বেশি ব্যবহৃত পণ্য পেঁয়াজ, চিনি, সয়াবিন তেল ও ডালের দাম বেড়ে যায়। অধিক মুনাফালোভী এসব ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের সুযোগ দেয়ার পরও পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ ক্রেতা। এসব সাধারণ ক্রেতার কথা বিবেচনা করেই পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা কোনো পণ্য আমদানির সময় আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের ওপর একটি অংশ ব্যাংকের আগাম পরিশোধ করতে হয়। এটাকেই ব্যাংকিং ভাষায় এলসি মার্জিন বলে। সাধারণত ক্রেতাভেদে এলসি মার্জিন নির্ধারণ করে থাকে ব্যাংক। ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রাহক ভেদে এলসি মার্জিনও ভিন্ন ভিন্ন নির্ধারণ করে। যেমন ১০০ টাকার একটি পণ্য আমদানি সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী আগাম ২০ টাকা পরিশোধ করলেন। বাকি ৮০ টাকা পণ্য আমদানির জন্য ব্যাংক জোগান দিলো।

সাধারণত পণ্য দেশে আসার পর বাকি ৮০ টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করে ব্যাংকের গোডাউন থেকে পণ্য ছাড়িয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। আবার অনেক সময় ব্যাংকের গোডাউনে রেখে অল্প অল্প পণ্য ছাড়িয়ে বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেন গ্রাহকরা। অনেক সময় গ্রাহক পণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের অর্থ ফেরত দেন না। একসময় ওই ঋণ ফোর্স ঋণ হিসেবে পরিণত হয়। এ কারণে ব্যাংক পণ্য আমদানির সময় বেশি অর্থ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করতে চান। তবে বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের ক্ষেত্রে গ্রাহকের সুনামের ওপর ভিত্তি করে শূন্য মার্জিনেও পণ্য আমদানির সুযোগ দেয় ব্যাংক। সূত্র জানিয়েছে, রমজানে ভোগ্য পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী রোধ করতে ও পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতেই ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, খেজুর, ফলমুল এবং চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে মার্জিনের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।