টুপি-পাঞ্জাবি পরে ক্লাসে যাওয়ায় ২ শিক্ষককে অব্যাহতি

ইজাব টিভি ডেস্কঃ টুপি ও পাঞ্জাবি পরে নিয়মিত ক্লাসে আসায় চাকরিচ্যুত হয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দেয় ক্ষোভ। ওই দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ এনে শনিবার সকালে কলেজের সামনে প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। এ সময় দুই শিক্ষককে ফের কলেজে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা।

তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, টুপি-পাঞ্জাবি পরার কারণে নয়, বারবার বলার পরও প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি না মানায় তাদের স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। শনিবার বিকাল ৫টায় অন্দোলনরত শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান যুগান্তরকে জানান, বিকাল ৩টার দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতিনিধি দল ও অব্যাহতি দেওয়া দুই স্যারকে ডেকে নিয়েছেন। ভেতরে বৈঠক চলছে। তারা এখনো বের হয়ে আসেননি। আমরা কলেজ গেটে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখে অবস্থান করছি। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি তাদের শুরু থেকেই পোষাকবিধি মেনে আসছিল। করোনার আগেও সবার ক্ষেত্রে পোশাকবিধির বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ক্লাস না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষও ছিল কিছু খামখেয়ালি। এমন সময় একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা পোশাকবিধি না মেনে নিজেদের ইচ্ছামতো পোশাক পরে কলেজে আসা শুরু করেন।

এমনকি কিছুদিন তারা কলেজে আসেনও। সম্প্রতি পোশাকবিধির বিষয়ে ফের কড়াকড়ি আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত সম্মান করে অন্যান্য সব শিক্ষক পোশাকবিধি অনুসরণ করলেও মানতে নারাজ পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হালিম ও আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মুজাহিদুল ইসলাম এমন অবস্থায় তাদের বারবার শোকজ পাঠানো হলেও পাত্তা দেননি তারা। পরে গভর্নিং বডির একটি সভায় পোশাকবিধি মানতে কড়াকড়ি আরোপ করে না মানলে নিজ ইচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পারেন বলে ওই দুই শিক্ষককে অবগত করা হয়। এরপরই টুপি ও পাঞ্জাবি পরে নিয়মিত ক্লাসে আসায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়। এমন খবর শুনে আন্দোলনে নামেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

তবে প্রভাষক আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের জানান, আমি ও প্রভাষক মুজাহিদুল ইসলাম নিয়োগের সময় পাঞ্জাবি-টুপি পরে কলেজে আসার জন্য আবেদন করি। সাবেক অধ্যক্ষ আমাদের তখন অনুমতি প্রদান করেন। কিন্তু বর্তমান অধ্যক্ষ পোশাকবিধি মানার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এমন অবস্থায় অনেকে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মানতে পারলেও আমরা তা মানতে পারিনি। তাই গভর্নিং বডি থেকে আমাদের মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে শনিবার দুপুরে কলেজের সামনে মানববন্ধনকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল আরিফুল ইসলাম রেজা বলেন, অনলাইনে যে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে তা সত্যি নয়। প্রভাষক আব্দুল হালিম ও মুজাহিদুল ইসলামের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বা তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। গভর্নিং বডির ৫২তম মিটিংয়ে তাদের ডেকে প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি মানার জন্য কঠোরভাবে বলা হয় এবং ৩১ মার্চের আগে তাদের তিনবার শোকজ পাঠানো হয়। কিন্তু বারবারই তারা দুজন প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ ৩১ মার্চ গভর্নিং বডির মিটিংয়ে তাদের ডেকে বলা হয়- প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি না মানলে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পারেন। তবে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। এটাই তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ।