আবার সীমিত আকারে ব্যাংক লেনদেন

ইজাব টিভি ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এক বছর পর আবারো সীমিত পরিসরে ব্যাংক লেনদেন চালু করার চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে আজ রোববার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এক সপ্তাহের জন্য এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আজ রোববার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সাথে আজ বৈঠক হতে পারে। বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সীমিত পরিসরে ব্যাংক লেনদেনের জন্য ওইসময় ২৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার দিয়েছিল। সার্কুলারটি কার্যকর করা হয়েছিল ২৯ মার্চ থেকে। ওইসময় সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে আরো দেড় ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ব্যাংক লেনদেন ও হিসেব চূড়ান্ত করতে দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখতে বলা হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত পরে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে মে পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়েছিল। ওই সূত্র জানিয়েছে, এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে এক সপ্তাহের লকডাউন দিতে যাাচ্ছে। যা কার্যকর হতে পারে আগামীকাল সোমবার থেকে। এ কারণে গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো ব্যাংক লেনদেন সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। আজ এ বিষয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর চূড়ান্তভাবে ব্যাংকগুলোকে আজই জানিয়ে দেয়া হবে।

কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রাহকের প্রয়োজনে নগদ অথবা চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলনের পাশাপাশি ডিডি অথবা পে-অর্ডার ইস্যু, ট্রেজারি চালান জমা দেয়া যাবে। একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেমে, অথবা ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার আওতাধীন অন্যান্য লেনদেন সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। এ দিকে সীমিত ব্যাংকিং চলাকালে অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেনদেন করতে পারবে না। তাদের চাহিদা পূরণের জন্য ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হতে পারে। একই সাথে এটিএমবুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকার নোট সরবরাহ করতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হতে পারে।