ঝড়ে সারা বছরের ফসল নষ্ট

ইজাব টিভি ডেস্কঃ ‘এ কেমন বাতাস আইল সারা বছরের খাওন কেড়ে নিল’ বোরো জমিতে এমন ক্ষতি হয়েছে খবর শুনে বুধবার নিজ জমিতে গিয়ে এভাবেই কথাগুলো বললেন মদন উপজেলার সাইতপুর গ্রামের ফুলচান মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া আক্তার, হাতিমের স্ত্রী শিখা আক্তার এবং আলাল উদ্দিনের স্ত্রী জুবেদা আক্তার। গত কয়েক দিন আগেও যেখানে ছিল ঘন সবুজের সমারোহ, এখন সেখানে সাদা ধূসর রঙের আভা। এক রাতের তপ্ত হাওয়া যেন হাওরের চিরচেনা রূপটিই বদলে দিয়েছে। চুরমার করে ভেঙে দিয়েছে মদন উপজেলার হাজারও কৃষকের স্বপ্ন। শুকিয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে রাশি রাশি ধান। আর এ কারণে কান্নার রোল পড়ে গেছে হাওরপাড়ের প্রতিটি কৃষক পরিবারে।

মঙ্গলবার ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিনিধিদল মদন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করে ক্ষতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করেছেন। দলটির প্রধান ‘ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মোহাম্মদ নাজমুল বারী হাওর পরিদর্শন শেষে বলেছেন, এটি এক ধরনের হিট শক। যেসব জমির ধান সবেমাত্র বের হচ্ছিল (ফ্লাওয়ারিং স্টেজ) অথবা ধানে চাল গজাচ্ছিল (মিল্কিং স্টেজ)- সেসব জমিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রোববার রাতে বয়ে যাওয়া তপ্ত বাতাসের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। মদন উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৫৮ হেক্টর জমিও ক্ষতি হয়েছে। আট হাজার ৮৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষক গোবিন্দশী গ্রামের রমজান মিয়া বলেন, আমি ধার-দেনা কীভাবে শোধ করব? আমার সংসার চলবে কী করে? আর কিছু দিন সময় পেলেই ধানগাছগুলো কাটতে পারতাম।

জেলার হাওর অধ্যুষিত মদন উপজেলায় গত তিন বছর আগে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আকস্মিক ঝড়ে বোরো ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ব্রি-ধান ২৯ এবং হাইব্রিড জাতের ধান ক্ষেতই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ব্রি-ধান ২৮ মোটামুটি পেকে আসায় সেগুলোতে তেমন একটি ক্ষতি হয়নি। এদিকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু এমপি মঙ্গলবার বিকালে মদন উপজেলার মাঘান ও গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ জানান, হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে যারা একেবারে নিঃস্ব তাদের আলাদা তালিকা প্রস্তুত করে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।