হাজীগণ আল্লাহর মেহমান

Mecca

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন : আল্লাহর হুকুম হিসেবে আমরা যেসব ইবাদত করি তা সাধারণত তিন প্রকার। ১. শারীরিক ইবাদত। যেমন নামাজ, রোজা ইত্যাদি। এখানে আর্থিক কোনো বিষয় নেই। ২. আর্থিক ইবাদত। যেমন জাকাত দেওয়া। এবং ৩. শারীরিক ও আর্থিক উভয়টি। অর্থাৎ এমন কিছু ইবাদত রয়েছে যাতে আর্থিক ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমও জড়িত। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হজ। এতে একদিকে যেমন অর্থ ব্যয় রয়েছে তেমনি রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম। আর্থিক ও শারীরিক উভয় প্রকার ইবাদত হজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকায় অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভেরও এটি একটি কার্যকর মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা হজের আবশ্যকতা সম্পর্কে ঘোষণা করেন, ‘মানুষের পক্ষে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করা ফরজ, যার পথের সামর্থ্য আছে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৭)। অপর আয়াতে এসেছে, ‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও ওমরা পূর্ণ কর।’ (সূরা আল বাকারা, আয়াত ১৯৬)। ইসলামের এই ফরজ হুকুম পালন করার জন্য যারা রওনা হন তারা আল্লাহর মেহমান। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, আমি রসুল (সা.)কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর যাত্রী হলো তিন ব্যক্তি।’ হাজি, গাজী ও উমরাকারী। বায়হাকী, নাসায়ী। এমনকি তারা যদি এই কাজ করার সংকল্প করে ঘর থেকে বের হওয়ার পর ইন্তেকাল করে তবু সেই সোয়াব পেয়ে যাবে। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি হজ, ওমরা অথবা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে, অতঃপর সে পথিমধ্যে মারা গেছে, তার জন্য হাজি, গাজী অথবা ওমরাকারীর সোয়াব লেখা হবে।’ বায়হাকী। আর যদি হজ করে ফিরে আসে তাহলে নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করেছে এবং তাতে অশ্লীল কথা বলেনি বা অশ্লীল কোনো কাজ করেনি সে হজ হতে (গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে) ফিরবে সেদিনের মতো, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।’ (বুখারি, মুসলিম)। অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তার যেমন কোনো গুনাহ থাকে না তেমনি হজ সম্পন্নকারী ব্যক্তিরও কোনো গুনাহ থাকে না। রসুল (সা.)কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, হুজুর! কোন আমল শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেন, আল্লাহ ও তার রসুলের ওপর বিশ্বাস করা। এরপর জিজ্ঞাসা করা হলো, তারপর কি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো, তারপর কি? তিনি বললেন, কবুল করা হজ (বুখারি, মুসলিম)। 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা হজ ও ওমরা সঙ্গে সঙ্গে কর। কারণ (হজ ও ওমরা) দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয় যেমন হাপর লোহা, স্বর্ণ, রুপা হতে ময়লা দূর করে দেয়। কবুল করা হজের সোয়াব জান্নাত ব্যতীত কিছুই নয় (তিরমিযী, নাসায়ী)। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য হজের চেয়ে কার্যকরী কোনো মাধ্যম নেই। তাই সামর্থ্যবান সব মুসলমানের জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে কবুল হজ নসিব করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।