ইসলামে পারস্পরিক সুসম্পর্ক গুরুত্ব অপরিসীম

NNNNNN

মাওলানা আবদুর রশিদ : ইসলামে মুমিনদের পারস্পরিক সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রসুল (সা.) সালাম দেওয়ার মাধ্যমে হলেও সুসম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। রসুল (সা.) এরশাদ করেছেন- সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হওয়াও ইমানের অংশ। সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে অনেক সময় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। অপরের ভুলত্রুটিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে হয়। এ কারণে রসুল (সা.) বলেছেন- ‘মুমিনের পায়ে একটা কাঁটা বিঁধলেও সে সওয়াব পায় এবং তার জান্নাতের দরজা বৃদ্ধি হয়।’ সুতরাং কারও থেকে কষ্ট পেলে সবর করুন। আপনি সে সবরের সওয়াব পাবেন। আর যদি রসুল (সা.)-এর এ হাদিসের ওপর আমল করেন, তাহলে সুন্নতের ইত্তেবা করার কারণে আরও বেশি সওয়াব পাবেন। অপর এক হাদিসে রসুল (সা.) এরশাদ করেন- কেয়ামতের দিবসে আল্লাহতায়ালা যখন সবরকারীদের আপন দয়ায় ভূষিত করবেন তখন অন্যরা আফসোস করবে আর বলবে, ‘হায়, দুনিয়াতে যদি কাঁচি দ্বারা আমাদের চামড়া কর্তন করা হতো, আর আমরা সবর করতাম তাহলে আমরাও এদের মতো এত সওয়াব লাভ করতাম।’ মানুষ এমনভাবেই আফসোস করতে থাকবে। সুতরাং এখন যে অল্প-বিস্তার কষ্ট পাচ্ছেন তা মেনে নিন, সহ্য করুন। 

সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ হলো- যার সঙ্গে সম্পর্ক আছে তার সব হক ও অধিকার আদায় করা এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন না করা। সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অন্তরের সম্পর্ক জরুরি নয় এবং তার সঙ্গে উঠা-বসা খাওয়া-দাওয়া গল্প-গুজব করাও জরুরি নয়। বরং সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য শরয়ি হক ও অধিকার আদায় করাই যথেষ্ট। সুতরাং, কারও সঙ্গে আপনার মনের মিল না থাকলে কেউ আপনাকে তার সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য করতে পারবে না, কিংবা কারও সঙ্গে আপনার সম্পর্ক না থাকলে তার কাছে বসতে এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক করতেও কেউ বাধ্য করতে পারবে না। শুধু তার হক আদায় করুন, সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকুন, সেটাই যথেষ্ট।

মানুষের পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি করা হলো শয়তানি কাজ। হাদিস থেকে জানা যায়, শয়তান অন্য কোনো কাজে এত আনন্দিত হয় না, মানুষের অন্তরে বিদ্বেষের দানা বাঁধিয়ে যে পরিমাণ আনন্দিত হয়। হাদিসে এসেছে- স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়াকে শয়তান নিজের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মনে করে। তাই এর বিপরীতে দুজন মুসলমানের পরস্পরের, বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে তাদের সম্পর্ককে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মধুময় করার প্রচেষ্টা চালানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আমাদের পরস্পরের মাঝে দিন-রাত ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে। এর মূল কারণ- রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতকে পরিত্যাগ করা এবং তার হিদায়ত ও এরশাদ থেকে বিমুখ থাকা। আল্লাহতায়ালা আপন দয়া ও কৃপায় আমাদের সবাইকে এসব কথার ওপর আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ।