কাদের মির্জার বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন ফেরত

ইজাব টিভি ডেস্কঃ আদালতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। আবেদনটি শোনার এখতিয়ার নাই বলে ফেরত দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকালে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এসএম মোসলেহ উদ্দিন মিজান বাদীর আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিকে একই দিন একই আদালতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। শুনানির পর মামলাটি নোয়াখালী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি দেখিয়ে ৯৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মির্জার ভাই শাহাদাত হোসেনকে দ্বিতীয় ও ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের ওরফে তাশিক কাদেরকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোসলেহ উদ্দিন মিজানের আদালতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের স্ত্রী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী হারুনুর রশিদ হাওলাদার মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আরজিতে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, প্রথম ঘটনা দেখানো হয়- ৮ মার্চ সোমবার বিকাল ৫টায় বসুরহাট রূপালী চত্বর; দ্বিতীয় ঘটনা দেখানো হয়- একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় বসুরহাট জিরোপয়েন্টের বঙ্গবন্ধু চত্বর। আইনজীবী হারুনুর রশিদ হাওলাদার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার আইন) ২০০২ এর ৪/৫ তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৩/৬ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বাদীর স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান আওয়ামী লীগের নতুন অফিস উদ্বোধন ও মিলাদ অনুষ্ঠান করতে গেলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে ১-৫০নং আসামিরা এবং ২, ৩নং আসামির নেতৃত্বে ৫১-৯৭নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা নতুন আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে খিজির হায়াত খানকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারিয়া শরীরে জখম করে। কাদের মির্জা তার গলাটিপে ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা করে ও তার পরনের কাপর-চোপর ছিঁড়িয়া ফেলে। অন্য আসামিরা অফিসে রক্ষিত জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদেরের ছবি ভেঙে ফেলে ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। দ্বিতীয় ঘটনার সময় সব আসামি একযোগে বঙ্গবন্ধু চত্বরে ভাংচুর চালায় আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য।

৯ মার্চ থানায় মামলা করলে পুলিশ এ মামলা গ্রহল না করায় সোমবার আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত দ্রুতবিচার আইনে দায়ের করা মামলা শোনাতে এখতিয়ার না থাকায় এ মামলাটি শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করে মামলা ফেরত দেন। আরজুমান পারভীনের আইনজীবী হারুনুর রশিদ হাওলাদার জানান, মঙ্গলবার এ মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হবে।আরজুমান পারভীন জানান, ৯ থেকে ১৩ মার্চ শনিবার পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও পুলিশের টালবাহানায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি রেকর্ড করাতে পারিনি।