গাজীপুর কারাগারে রফিকুল ইসলাম মাদানী

ইজাব টিভি ডেস্কঃ আলোচিত ‘শিশু বক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানিকে (২৬) র‌্যাবের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ঐ মামলায় গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। রফিকুলকে গত বুধবার নেত্রকোনায় তার বাড়ি থেকে আটক করে র‌্যাব। আটকের পর তাকে বুধবার রাতেই গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আদালত থেকে পুলিশ ও র‌্যাবের কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে তাকে গাজীপুর জেলা কারাগার নিয়ে যাওয়া হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ইলতুিমশ সাংবাদিকদের বলেন, মাদানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের কলমেশ্বর এলাকায় একটি কারখানা চত্বরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন মাদানি। ঐ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে গাছা থানায় মামলা হয়েছে। র‌্যাব-১-এর ডিএডি আব্দুল খালেদ বাদী হয়ে ঐ মামলা করেন। জানা গেছে, মামলায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৮ ও ৩১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে আক্রমণাত্মক ও মিথ্যা ভীতি প্রদর্শন; তথ্য-উপাত্ত ইলেকট্রনিকস বিন্যাসে প্রকাশ ও সম্প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপরাধের কথা বলা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির সফরের বিরুদ্ধে গত ২৫ মার্চ বিক্ষোভকালে ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে মাদানিকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঐ ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। ঐ সময় বিক্ষোভ ও হেফাজতে ইসলামের হরতাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল। মাদানির ওয়াজে সহিংসতার উসকানি ছিল বলে দাবি করেছে র‌্যাব। মাদানির বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামে। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয় বলে স্বজনেরা জানান। ইসলামি দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা রফিকুলের বয়স ২৬ বছর হলেও শিশুসুলভ চেহারার জন্য তাকে ‘শিশু বক্তা’ বলে ডাকেন তার ভক্তরা।

মাদ্রাসায় তালা ঝুলছে: গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার বাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে মারকাজুন নূর আল ইসলামিয়া নামে একটি আবাসিক মাদ্রাসা রয়েছে রফিকুল ইসলাম মাদানির। তিনি ঐ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও পরিচালক। এক বছর আগে এক প্রবাসীর বাড়িভাড়া নিয়ে মাদানি ঐ মাদ্রাসা চালু করেন। মাদ্রাসাটিতে নুরানী মক্তব, নাযেরা, হিফজ বিভাগ ছাড়াও প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করানো হয়। বৃহস্পতিবার মাদ্রাসাটির প্রধান ফটকের ভেতর থেকে দুটি তালা ঝুলতে দেখে গেছে। মাদ্রাসার ভেতরে কাউকে দেখা যায়নি। কোনো শিক্ষক-কর্মচারীও ছিল না।

ঢাকায় মামলা: এদিকে রাজধানীর মতিঝিল থানাতেও মাদানির বিরুদ্ধে গতকাল সন্ধ্যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।