রাজধানীতে চলছে পশুর হাটের প্রস্তুতিপর্ব

ইজাব টিভি ডেস্কঃ রাজধানীতে পশুর হাটগুলোতে চলছে প্রস্তুতি পর্ব। পশু কেনাবেচার জন্য সাজানো হচ্ছে হাটগুলোকে । একই সাথে প্রচার প্রচারণাও শুরু হয়েছে। এদিকে স্থায়ী হাট গাবতলীতে ইতিমধ্যেই পশু আসা শুরু হয়েছে কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মোট ২২টি স্থানে হাট বসার অনুমতি দিয়েছে। অবশ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন করোনার কারণে তিনটি হাটের ইজারা ইতিমধ্যে বাতিল করেছে। এদিকে, যে হাটগুলোর ইজারা বহাল আছে ওই হাটগুলোতে পশু কেনাবেচার জন্য প্রস্তুতি চলছে।

অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আফতাবনগর হাট। সেখানে কয়েকদিন ধরেই হাট প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাট সংশ্লিষ্টরা। প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে। পশু রাখার স্থানগুলোও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। হাট তৈরিতে কাজ করছেন শতাধিক শ্রমিক।আফতাবনগর হাটের ইজারা পেয়েছেন ওমর শরীফ দিপু ও মাহাবুব রহমান শিমুল। প্রতি বছর কুরবানির পশু কিনতে রাজধানীর আফতাবনগরের পশুর হাটে ঢাকাসহ ঢাকার বাইরের হাজারো ক্রেতা আসেন। তবে যেহেতু দেশে লকডাউন চলছে সে ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরের ক্রেতাদের তেমন একটা সাড়া পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন ইজারাদাররা। আফতাবনগর হাট প্রস্তুত সম্পর্কে ইজারাদার মাহাবুব রহমান শিমুল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে হাটের ইজারা নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা হাট প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি দুই এক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। যেহেতু লকডাউন ১৪ জুলাই পর্যন্ত তাই ১৫ তারিখ থেকে হাটে গরু আনার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি।

করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা সরকারের বিধি নিষেধ মেনে চলব। হাটের প্রতিটি গেটে হ্যান্ডসেনেটাইজার রাখব। ক্রেতা বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক নিশ্চিত করব। প্রতিটি গেটে আমাদের লোকজন থাকবে। হাটে ঢোকার সময় যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় সে বিষয়টা মাথায় রাখব। অন্য হাটগুলোতে গিয়েও দেখা গেছে হাটগুলোর প্রস্তুতিপর্ব চলছে। ইজারাদারদের লোকজন এই প্রস্তুতে ব্যস্ত। দিনরাত তারা কাজ করছেন। রাস্তায় বড় বড় তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে হাটের বিজ্ঞাপন দিয়ে। তবে একাধিক হাটের ইজারাদাররা বলেছেন, করোনার কারণে বেচা-বিক্রি নিয়ে তারা শঙ্কিত। সাধারণ সময়ে এই সময়ে হাটে অনেক পশু আসত। এবার এই সময়ে তারা হাটই প্রস্তুত করতে পারেননি।

এদিকে গাবতলী হাটে ইতিমধ্যেই অনেক পশু এসেছে কোরবানির জন্য। হাটের এক স্থায়ী বিক্রেতা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই অনেক পশু এসেছে। দু-একটি কেনাবেচাও শুরু হয়েছে। তবে এখনো জমেনি। লকডাউনের কারণে ক্রেতার উপস্থিতিও তেমন নেই। তবে কেনাবেচা দু’চার দিনের মধ্যেই জমে উঠবে বলে ওই ব্যবসায়ী আশা প্রকাশ করেন। হাটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, ঢাকায় বেচাকেনা যেমন হবে এই চিন্তা করে ব্যবসায়ীরা এখনো ঢাকায় আসছেন না। টুকটাক আসছে, আর টুকটাক বেচাকেনাও হচ্ছে।