রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মামলায় গ্রেফতার ১০

ইজাব টিবি ডেস্কঃ কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-১৮তে একটি মাদ্রাসায় গুলি করে ও কুপিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করেন ওই ঘটনায় নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ওসি সনজুর মোরশেদ। তিনি বলেন, নিহত আজিজুল হকের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে মামলাটি করেছেন। এ ঘটনায় ১০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন ৮ -এর সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ক্যাম্প ৮-এর আবু তৈয়বের ছেলে দিলদার মাবুদ ওরফে পারভেজ (৩২), সৈয়দ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আইয়ুব (৩৭), ক্যাম্প ৯-এর নুর বাশারের ছেলে ফেরদৌস আমিন (৪০), মৌলভী জাহিদ হোসেনের ছেলে আব্দুল মজিদ (২৪), ক্যাম্প ১৩-এর আলী আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আমিন (৩৫), আবু সিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে ফয়েজ (২৫), ক্যাম্প ১২-এর ইলিয়াছের ছেলে জাফর আলম (৪৫), ক্যাম্প ১০-এর ওমর মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ (৪০) ও মৃত নাজির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আমিন (৪৮)। এ ছাড়া ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন মুজিবুর রহমান নামে এক রোহিঙ্গা যুবক। এ বিষয়ে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (এসপি) শিহাব কায়সার খান বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। তাই তাদের মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার ভোরে বালুখালীর ক্যাম্প-১৮তে ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় ঘুমন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে তিন শিক্ষক ও এক ছাত্রসহ ছয়জন নিহত এবং কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে হামলাকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের দাবি, মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী কথিত আরসার সন্ত্রাসীরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রচারণা করা যাবে না বলে এর কয়েকজন নেতা হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ রোহিঙ্গারা হুমকি উপেক্ষা করে আরসার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে মহল্লাভিত্তিক বৈঠক করে। বিভিন্ন বৈঠকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন শুক্রবার নিহত হাফেজ মো. ইদ্রিসসহ আহতদের কয়েকজন।

রোহিঙ্গাদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে আরসা। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি মাদ্রাসা পরিচালনায় দুজন আরসা সদস্যকে কমিটিতে রাখার প্রস্তাব দেয় তারা। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তাতে রাজি হননি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এবিপিএন-৮ অধিনায়ক (এসপি) শিহাব কায়সার খান বলেন, যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী রোহিঙ্গাদের কেউ আশ্রয় দিয়েছে এমন প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবারের ঘটনার সঙ্গে মুহিবুল্লাহ হত্যার যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা অধিকতর তদন্তের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ক্যাম্পে কর্মরত ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক বলেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এটি সঠিক। কিন্তু ক্যাম্পে কোনো দুর্বৃত্ত সংগঠনের অস্তিত্ব নেই।