মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসি’র পরিকল্পনার রূপরেখা দিলেন মেয়র তাপস

ইজাব টিবি ডেস্কঃ মশক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে সজ্জিত হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। মশক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত লড়াইয়ের অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত মানসম্মত কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে।ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নগর ভবনে তার কার্যালয়ে বাসস’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘গত বছরের ১৬ মে কভিড-১৯ ও ডেঙ্গু মহামারীর মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং এর জন্য সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনায় রদবদল এনেছি। তিনি বলেন, রদবদলকৃত কর্মপরিকল্পনা অনুসারে ডিএসসিসি তার আওতাধীন ৭৫টি ওয়ার্ডে সারা বছর দৈনিক ভিত্তিতে সু-সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করেছে। মেয়র বলেন, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ডিএসসিসিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল, আধুনিক মেশিনারিজ এবং পর্যাপ্ত ভালো মানের কীটনাশক সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আমরা সফলতা পেয়েছি। নগরবাসী ২০১৯ এর শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছে।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমাদের এই বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এডাল্টিসাইডিং কর্মকাণ্ডে ৩৭৫টি নতুন ফগার মেশিন, লার্ভিসাইডিং কর্মকাণ্ডে চার শ’টি নতুন হ্যান্ড-স্প্রে মেশিন এবং কিউলেক্স মশক নিয়ন্ত্রণ কাজে ব্যবহারের জন্য ২৫টি নতুন হুইল-ব্যারো মেশিন ক্রয় করেছি। বর্তমানে তা ৩৭-এ দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বড় বড় জলাশয়ে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে হুইলব্যারো মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। তাপস বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে ডিএসসিসি প্রথমবারের মতো স্থায়ীভাবে কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা কয়েকটি পদের বিপরীতে তারা চারজন সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন।

মেয়র বলেন, ৭৫টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে প্রতি ওয়ার্ডে সাতজন মশককর্মী সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম এবং বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতি ওয়ার্ডে ছয়জন মশক কর্মী ১২টি ফগার মেশিন দিয়ে এডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডেই মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য একজন করে মশক সুপারভাইজার নিয়োগ করেছি। বর্তমানে প্রতি ওয়ার্ডে ১৪ জন করে ৭৫টি ওয়ার্ডে মোট এক হাজার ৫০ জন কর্মী লার্ভিসাইডিং, এডাল্টিসাইডিং এবং তদারকি ও সমন্বয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

প্রতি ওয়ার্ডে ১৪ জন করে ৭৫টি ওয়ার্ডে মোট এক হাজার ৫০ জন কর্মী মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন উল্লেখ করে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘কিউলেক্স মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার আগে মশক কর্মী ও সুপারভাইজারদের জন্য আমরা প্রথমবারের মতো মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। কারণ এডিস মশকের প্রজননস্থল আর কিউলেক্স মশকের উৎসস্থল সম্পূর্ণ আলাদা। বছরের নির্দিষ্ট একটা সময় এক ধরনের কাজ করার পর আরেক ধরনের কার্যক্রম শুরু করলে তাতে কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক বাধা অনুভব হয়। সে বাধা দূরীকরণে আমরা এই মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।

এ ছাড়াও জনগণকে এই সেবা প্রদানে তাদের মনোজাগতিক পরিবর্তনেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভালো ফল দেবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। আগামী দিনে আমরা এই প্রশিক্ষণ নিয়মিতভাবে চালু রাখব। তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কীটনাশকের গুণগত মান নিয়ে জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ছিল। আমরা কীটনাশকের গুণগত মান নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করি। মাঠ পর্যায়ে ব্যবহৃত হওয়ার আগে কীটনাশক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে মানদণ্ড রয়েছে আমরা তা পুরোপুরি নিশ্চিত করছি। তিনটি নিরীক্ষার কোনো একটিতেও যদি ভাল ফলাফল না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা সে কীটনাশক গ্রহণ করছি না।

মেয়র বলেন, ডিএসসিসি নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে যার মধ্যে রয়েছে-ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে মশক বিরোধী কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক প্রচারণা।ডিএসসিসি এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৭০৯টি বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে। সেখানে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৬৯৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।ব্যারিস্টার তাপস বলেন, প্রয়োজনে তারা সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রাখবেন।